ডোমেইন কেনার আগেই কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখলে পরে হাজার টাকা আর কয়েক সপ্তাহ বেঁচে যায়। তালিকাটা ছোট, কিন্তু প্রতিটি পয়েন্টেই মানুষ আটকায়।
নতুন উদ্যোক্তাদের সাথে কথা বলতে গিয়ে আমরা একই ভুলগুলো বারবার দেখি — ওয়েবসাইট বানানো হয়ে যাওয়ার পর মনে পড়ে যে ডেলিভারি চার্জের হিসাবটাই ঠিক করা হয়নি, কিংবা প্রোডাক্টের ছবি নেই। নিচের সাতটি জিনিস আগে ঠিক করে নিলে কাজটা অনেক মসৃণ হয়।
১. কী বিক্রি করবেন, কতটা স্পষ্ট
"সব কিছু" বিক্রি করার সাইট নতুন ব্যবসার জন্য সবচেয়ে কঠিন। একটি ক্যাটাগরি বেছে নিন, ২০–৩০টি পণ্য দিয়ে শুরু করুন। ক্যাটালগ ছোট হলে ছবি তোলা, বর্ণনা লেখা আর স্টক সামলানো — তিনটিই সম্ভব থাকে।
২. প্রোডাক্টের ছবি
সাইটের ডিজাইন যত ভালোই হোক, ঝাপসা ছবি বিক্রি নষ্ট করে। সাদা ব্যাকগ্রাউন্ডে মোবাইলেই তোলা যায় — শুধু আলো ভালো হতে হবে। প্রতিটি পণ্যের অন্তত তিনটি কোণ রাখুন।
৩. ডেলিভারি চার্জের নিয়ম
- ঢাকার ভেতরে ও বাইরে আলাদা চার্জ ঠিক করুন
- কত টাকার অর্ডারে ফ্রি ডেলিভারি, সেটা আগেই ঠিক করুন
- ক্যাশ অন ডেলিভারিতে অগ্রিম নেবেন কি না, সিদ্ধান্ত নিন
৪. পেমেন্ট পদ্ধতি
বাংলাদেশে বেশিরভাগ অর্ডার এখনো ক্যাশ অন ডেলিভারিতে হয়, কিন্তু বিকাশ-নগদ রাখলে অগ্রিম নেওয়া সহজ হয় আর ভুয়া অর্ডার কমে। শুরুতে ম্যানুয়াল বিকাশ নম্বর দিয়েও চালানো যায়।
৫. রিটার্ন ও রিফান্ড নীতি
লিখিত নীতি না থাকলে প্রতিটি ঝামেলায় নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়, আর কাস্টমারও আস্থা পায় না। তিন-চার লাইনের সহজ নীতিও যথেষ্ট — শুধু সাইটে স্পষ্ট জায়গায় থাকতে হবে।
৬. কে অর্ডার সামলাবে
দিনে ১০টি অর্ডার একজনে সামলানো যায়, ৫০টি যায় না। কে ফোন ধরবে, কে কুরিয়ারে দেবে, কে স্টক আপডেট করবে — শুরুতেই ভাগ করে নিন।
৭. প্রথম মাসের বাজেট
ওয়েবসাইটের খরচ একবারের, কিন্তু বিজ্ঞাপনের খরচ প্রতি মাসের। অনেকে পুরো বাজেট সাইটে দিয়ে ফেলে বিজ্ঞাপনের জন্য কিছু রাখেন না — ফলে সুন্দর সাইটে কেউ আসে না। অন্তত অর্ধেক বাজেট বিজ্ঞাপন ও স্টকের জন্য রাখুন।
সাইট বানানো সবচেয়ে সহজ ধাপ। কঠিন ধাপ হলো প্রথম ১০০টি অর্ডার সামলানো — তার প্রস্তুতিটাই আগে নিন।
